ওয়াকফে জাদীদ

সূচনা: গ্রামাঞ্চলের জামাতে তালীম ও তরবিয়ত এবং তবলীগের উদ্দেশ্যে ওয়াকফে জাদীদের সূচনা হয় ১৯৫৭ সালে।

ওয়াকফে জাদীদের সীমা: প্রথমে এই তাহরীক কেবল পাকিস্তানেই সীমাবদ্ধ ছিল। পরবর্তীতে হযরত খলীফাতুল মসীহ রাবে (রাহে.) এটিকে আন্তর্জাতিক রূপ দান করেন।

ওয়াকফে জাদীদের গুরুত্ব: হযরত মুসলেহ মাওউদ (রা.) বলেন, “আমার হৃদয়ে যেহেতু আল্লাহ্ তালা এই তাহরীকের উদ্রেক ঘটিয়েছেন তাই আমাকে যদি আমার বাড়িও কিক্রি করতে হয়, কাপড় বিক্রি করতে হয়, তবুও আমি এই কর্তব্য পালন করবো। জামাতের একজন সদস্যও যদি আমার সাথে না আসে আল্লাহ্ তালা তাদেরকে পৃথক করে দিবেন এবং আমার সাহায্যের জন্য ফেরেশতাদেরকে আকাশ থেকে পাঠিয়ে দিবেন।”

হযরত মুসলেহ মাওউদ (রা.) বলেছিলেন “আমি জামাতের সকলকে জোর দিয়ে বলছি, তারা যেন এর গুরুত্বকে অনুধাবন করে এবং এদিকে দৃষ্টি দেয়, একে সফল করার জন্য সর্বশক্তি ব্যয় করে এবং চেষ্টা করে, কোন ব্যক্তি যেন এমন না থাকে যে, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও এতে অংশ গ্রহণ করেনি।”

মায়েদের দায়িত্ব: হযরত খলীফাতুল মসীহ সালেস (রাহে.) আহমদী মায়েদের সম্বোধন করে বলেন, “সকল আহমদী সন্তান যারা আপনাদের কোলে লালিত পালিত হয়, যাদের তরবিয়তের ভার আপনাদের উপর তারা যেন এদিকে মনোযোগী হয়। কিন্তু পূর্ণ মনোযোগের জন্য নিজেদের সন্তানদের মাঝে এই কাজের গুরুত্ব তাদের মাঝে প্রোথিত করতে হবে। আর সন্তানদের মাঝে আপনারা তখনই এর গুরুত্ব প্রোথিত করতে পারবেন যখন আপনারা নিজে এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারবেন, অন্যথায় সম্ভব নয়।” (আলফজল রাবওয়া ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮)

ছোটদের প্রতি হুযূরের আবেদন: হযরত খলীফাতুল মসীহ সালেস (রাহে.) ১৯৬৬ সালে বলেন, আজ আমি আহমদী সন্তানদের (ছেলে ও মেয়েদের) কাছে আবেদন জানাচ্ছি, ছোটরা তোমরা উঠ এবং সামনে এগিয়ে আস এবং এ তাহরীকের ক্ষেত্রে যে দুর্বলতা সৃষ্টি হয়েছে তা দূর কর। (৭ই অক্টোবর ১৯৬৬)

  

ওয়াকফে জাদীদের উদ্দেশ্য: হযরত মির্যা তাহের আহমদ খলীফতুল মসীহ রাবে (রা.) বলেন, মূলত: দুটি বড় উদ্দেশ্য নিয়ে এ তাহরীক জারি করা হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে তালীম তরবিয়ত করা এবং ধর্মীয় শিক্ষা ও তরবিয়তের ঘাটতি পূরণ করা। (আলফজল রাবওয়াহ ৩রা জুন ২০০৫)

আহমদী শিশুদের দায়িত্ব: হযরত খলীফাতুল মসীহ সালেস (রাহে.) শিশুদের সম্বোধন করে বলেছেন, তোমরা ওয়াকফে জাদীদ এর দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে নাও আর বয়োজেষ্ঠদের জানিয়ে দাও, আহমদী

শিশুরাও কোন এক সিদ্ধান্ত নিয়ে দাড়িয়ে গেলে বড় বড় বিপ্লব সাধনে তারাও সাহায্যকারী হয়ে যায়।

হযরত খলীফাতুল মসীহ আল খামেস (আই.) বলেন, “চেষ্টা এটাই হওয়া উচিত, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা যেন বৃদ্ধি পায়। বেশী বেশী সংখ্যায় আহমদী ছোট ছোট ছেলেমেয়ে মহিলা ও পুরুষগণও এতে অন্তর্ভূক্ত হোন।”

ওয়াকফে জাদীদের সীমা: প্রথমে সীমিত পরিসরে থাকলেও পরে ওয়াকফে জাদীদ—এর এই তাহরীক সমগ্র দুনিয়ার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

চাঁদার হার: গত ১৬ আগস্ট, ২০১৩ তারিখে হযরত খলীফাতুল মসীহ আল খামেস (আই.) বলেন, “আমি সকল জামাতকে বলেছি, নও—মোবাঈন এবং শিশুকিশোরদেরও ওয়াকফে জাদীদ ও তাহরীকে জাদীদের চাদায় বেশী বেশী অংশগ্রহণ করানোর চেষ্টা করুন, এক পয়সা দিয়েও যদি কেউ এতে শামিল হয় হোক, তবুও যেন সে অভ্যস্ত হয় এবং আল্লাহ তালার আশিষ লাভ করতে পারে।”